শরৎ আকাশে ভেসে বেড়ায় শুভ্র মেঘের ডানা,
শরৎ প্রকৃতি খুঁজে ফেরে এক অজানা সীমানা।
শরৎ বাতাসে শিউলি ঝরে মেতে ওঠে ধরণী,
শরৎ সকালে বাজে মনে কোলাহলের তরণী।
শরৎ বিকেলে কাশবন দোলে নদীর মৃদু চরে,
শরৎ পরশে জুড়িয়ে যায় যে তপ্ত চোখের পরে।

কাশফুল আজ সাদা রেশমে সাজায় সারা মাঠ,
কাশবনের ওই চরে বসে জীবনের কোলাহল হাট।
কাশফুলের চাদর গায়ে নদী বয়ে চলে ধীরে,
কাশবনের গন্ধ ভাসে ওই দক্ষিণা সমীরণ তীরে।
কাশবনের বুকে জমে থাকা হিমের পরশ কণা,
কাশফুল যেন মনে আনে রূপোলী মেঘের বিছানা।
শাপলা দীঘিতে ফোটায় জোছনা শান্ত জলের ধারা,
শাপলা পাতার বুকে ভাসে অলস চাঁদের তারা।
শাপলা ফুলের পাপড়ি জুড়ে জলের গভীর টান,
শাপলা হাসির দীঘি জুড়ে গায় যে প্রাণের গান।
শাপলার সুবাসে মেতে ওঠে শান্ত জলের বুক,
শাপলা ছোঁয়ায় ঘুচে যায় যে মনের যত দুখ।

ভোরের শিশির আলতো ভেজে নরম সবুজ ঘাসে,
ভোরের আলোয় সোনা ঝরে স্নিগ্ধ নদীর পাশে।
ভোরের বাতাসে ভাসে কেবল শিউলি ফুলের ঘ্রাণ,
ভোরের কুয়াশা মুছে ফেলে উদাসী এই প্রাণ।
ভোরের পুব আকাশে ওড়ে মুক্ত ডানার পাখি,
ভোরের রূপেই খুঁজে ফিরি কাঙ্ক্ষিত সেই আঁখি।
নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে গাঙচিল অবুঝ ডানায়,
নীল দিগন্তে হারিয়ে যেতে মন যে শুধু ছুটে চলায়।
নীল চাদরে ঢেকে থাকে রূপালী মেঘের মেলা,
নীল আকাশের বুক জুড়েই আলোর লুকোচুরি খেলা।
নীলিমার ওই সুদূর কোণে ভাসে অলীক কায়া,
নীল ছায়ায় আজ বুজে আসে স্নিগ্ধ চোখের মায়া।
প্রকৃতি আজ উঠেছে মেতে শরতের উৎসবে,
প্রকৃতির বুকে শরত লাবণ্য চিরদিন বেঁচে রবে।
প্রকৃতির চাদর মুড়ি দিয়ে নদী বয়ে চলে দূরে,
প্রকৃতির রূপের গান বাজে ওই উদাসী সুরে।
প্রকৃতিতে কুয়াশা জড়ায়, শীতের পরশ মৃদু,
প্রকৃতিতে বাজে আগমনী ঢাক, খুশির দিন মধু।।
তারিখ- ১৯.০৯.২০২৬। শ্যামলী, ঢাকা।